পোস্টগুলি

মনের ঝাপসা দর্পন !

ছবি
ঝাপসা মনের অনুভূতিপাঠ.... হরেক রকম অনূভূতির হরেক রকম প্রকাশ, নানান পুস্তক ঘেটেঘুটে আমার অধম মস্তিষ্কের এই প্রকাশ ! ১) “অভূতস্মৃতিবিস্মরণ” - এটা এমন একটা অভিজ্ঞতা যেটা কেউ শুনবে না বা শুনলেও হেসে উড়িয়ে দেবে । আপনি অত্যন্ত অদ্ভুত একটা পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, যেটায় কেউ পড়েনি এর আগে, এর ভয়ংকর অস্বাভাবিকতাটা সম্পর্কে কারো কোন ধারণাই নেই । আপনি এমন কিছু হয়তো শুনেছেন, দেখেছেন যেটা আর কেউ শুনেনি বা দেখেনি । তাই আপনি জগতের কারো সাথে এই অভিজ্ঞতাটা নিয়ে কথা বলে শান্তি পাচ্ছেন না, কেউ সহমর্মী হচ্ছে না আপনার প্রতি । ধীরে ধীরে আপনি নিজে থেকেই আপনার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাটা ভীষণ কষ্টে ভুলে যেতে শুরু করবেন । এভাবে ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটাই হল "অভূতস্মৃতিবিস্মরণ" । ২) “জ্যেষ্ঠহরণভীতি” - এটা হচ্ছে খুব প্রিয় কাউকে তার / তাঁর বয়স বাড়ার সাথে হারিয়ে ফেলার ভয় । এটা সবচেয়ে বেশি হয় বাবা/মা এর সাথে । ৩) “আত্মাস্তভীতি” - এটা হচ্ছে খুব প্রিয় বিমূর্ত কোন কিছুকে নিজের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হারিয়ে ফেলার ভয় । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নিজের সৌন্দর্য, সৌন্দর্যবোধ, আত্মসম্মানবোধ, চঞ্চলতা...

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"

ছবি
বন্ধ বইয়ের মত নিজেকে জানো না ! নয়তো জানতে তোমার মাঝে খোদার চিহ্ন লুকানো আছে। সত্য প্রকাশিত তোমার মাঝেই। প্রচলিত ধর্মতত্ত্ব আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করে। সেটাই হলো ধর্মতত্ত্বের মূল কথা, শরিয়ত আল্লাহ সম্পর্কে যুক্তি প্রদান করে, পর্যবেক্ষণ করে, চিন্তা করে, আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা করে। সুফিবাদ আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করে না। কারণ সুফিগণ বলেন, তুমি কীভাবে আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করতে সক্ষম? এখানে চিন্তাই অকেজো। তুমি এ দেহপৃথিবী সম্পর্কে চিন্তা করতে পার। কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে তুমি চিন্তা করতেই পার না। তুমি কেবল তাঁর প্রেমে মশগুল হয়ে সম্পূর্ণরূপে তন্মধ্যে একাত্ম হয়ে যেতে পার। অতএব এটা কোনও ধর্মতত্ত্বই নয়, আত্মমুক্তির পথ পদ্ধতি শেষ। এটা তোমার সচেতন অনুশীলনমালার ফল। তরিকত সে পথ যে পথ মিলেছে পরমে পরম্পরায়। যদি তুমি ফকিরকে অনুসরণ কর, যদি ধীরে ধীরে বিভেদ ভুলে অখণ্ড অস্তিত্বে বিলীন হও, তার শেষ ফল হলো, ফানা। ‘ফানা’ মানে হলো দেহলীন অবস্থা। বুদ্ধ (আঃ) যাকে বলেন ‘নির্বান’। তোমার সম্পূর্ণ বিলয় ঘটে কিন্তু তোমার বিলয়ে সেখানে আল্লাহর উদয় ঘটে। যদি তুমি ফানার হালে থাক তবে হঠাৎ শূন্য থেকে তোমার ...

"জন্মাই আমার আজন্ম পাপ/অভিশাপ"

ছবি
শয়তানের জবানবন্দি...... বৈশাখ মাস, আকাশ পরিষ্কার, বায়ু স্তর। রাতটি ছিল অতি গরমের। বৈঠকঘরের বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছি ; ঘুম আসে না গরমে। মনে হয় যেনো জাহাজে বয়লারের কাছে শুয়েছি অন্যত্র জায়গা না পেয়ে। মনটা ছোটাছুটি করছে তাপের লেজ ধরে কল্পনাজগতের নানা পথে। ভাবছি তাপ দুপ্রকার – কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক। কৃত্রিম তাপ কমানো যায়, বাড়ানো যায়, নতুবা তাপের উৎস থেকে দূরে সরে যাওয়া যায়। কিন্তু প্রাকৃতিক তাপের বেলায় সবসময় তা পারা যায় না। আজকের এ তাপের উৎস হচ্ছে সূর্য। যার স্থানীয় তাপমাত্র ৬০০০ হাজার ডিগ্রী (সে) এবং দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। শোনা যায় যে, দোজখের আগুনের তাপ নাকি সে আগুনের চেয়ে ৭০ গুণ বেশী। অর্থাৎ ৪,২০,০০০ ডিগ্রী (সে) এবং তা হবে মানুষের কাছে দূরত্বহীন। কেননা সে আগুনের ভিতরেই নাকি থাকতে হবে তথাৎ বিধৰ্মী বা অধাৰ্মিক মানুষকে। তা-ও আবার দশ-বিশ বছর নয়, অনন্তকাল। মানুষের এহেন কষ্টভোগের কারণ নাকি একমাত্র শয়তান। তাই বিশ্বাসী মানুষ মাত্রেই শয়তানের উপর অত্যন্ত ক্ষ্যাপা। শয়তান নাকি পূর্বে ছিলো ‘মকরম’ নামে একজন প্রথম শ্রেণীর ফেরেস্তা এবং অত্যন্ত মুসল্লী। সে নাকি এতই খোদ...

মানব মগজ

ছবি
হিউম্যান ব্রেন বা ‘মানব মগজ’। এই মানব মগজ হচ্ছে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি।  মানুষের মগজের ওজন গড়ে ৩ পাউন্ড। শরীরের আকারের তুলনায় মানুষের ব্রেনই সবচেয়ে বড়।  মানুষের ব্রেনই সবচেয়ে বড় অংশ হল সেরিব্রাম। এই সেরিব্রামের ওজন পুরো মগজের ৮৫ শতাংশ। মগজের হোয়াইট মেটার বা শ্বেতাংশ ৬০ শতাংশ আর গ্রে মেটার বা ধূসরাংশ ৪০ শতাংশ। আর এই হোয়াইট মেটার বা শ্বেতাংশ এবং  গ্রে মেটার বা ধূসরাংশের ৭৫ শতাংশই পানি। মানুষের ব্রেনের ৬০ শতাংশই চর্বি। গর্ভে আসার পর থেকে মগজে প্রতি মিনিটে ২৫০,০০০ নিউরন তৈরি হয়। এই মগজ মানুষের শরীরের ২৫ শতাংশ অক্সিজেন খরচ করে। মগজে তথ্য প্রক্রিয়াজাত হয় সেকেন্ডে ১/২ মিটার থেকে ১২০ মিটার গতিবেগে। এবার আসি কাজের কথায়। মানুষের মস্তিস্কের তথ্য ধারন ক্ষমতা কত? মানব মস্তিষ্কের প্রায় ৫০ বিলিয়ন থেকে ২০০ বিলিয়ন নিউরোন রয়েছে। প্রতিটি নিউরনে রয়েছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ট্রিলিয়ন সিন্যাপস। প্রতিটি সিন্যাপস বার বার সক্রিয় করা হয় ভেরিয়েবল থ্রেশহোল্ড (অগ্নিসংযোগ/স্পার্ক) এর মাধ্যমে। যদি আমরা ধরেনি প্রতিটি সিন্যাপসে ২৫৬ টি আলাদা থ্রেশহোল্ড হয় এবং প্রতিটি  নিউরন ১০...

অতিষ্ট

ছবি
১. বিষন্ন এ পৃথিবীটা আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। আমাকে আকড়ে ধরে বিষক্ত পোকার মত; চাতক পাখির মত তাকিয়ে থাকে দু:খগুলো - চিল শকুনের মত, ঠোকরে ঠোকরে খাবে বলে; পালিয়ে বেড়াই অন্য এক পৃথিবীতে। এখানেও সুখ নেই। এখানেও সুখ নেই। বথার ক্ষত হৃদয়গুলো এখানে, ইচড়ে পাকা দেহগুলো, পঙ্গু জীবনগুলো, হিংস্র জানোয়ারের আচড় খাওয়া চামড়াগুলোর এখানে বাস। সুখ নাই। কোথায় যাব। ২. কবিতা জীবনে অব্যক্ততা বড় জ্বালা নেই তো কোন বদল পালা; দ্বিধাদ্বন্ধে হারায় স্বস্ব অভিপ্রয় কাঁদে যত অব্যক্ত কথামালা। হারা ধরে হয় না পথে ফেরা হয় না আর কখনো মনপুরা; থমকে যাওযা জীবন নাটকে নেই তো কোন পথ খোলা। নিঃসঙ্গতা যে হতাশার পথ- ঘিরে রহে অক্টোপাসের মত; না পারে কহিতে সহিতে ধরে না পারে...

ভালোবাসার প্রান !

ছবি
শুরুতেই সবাইকে অক্সিটসিন, ভেসোপ্রেসিন ও ডোপামিনময় ভালবাসা। ভালবাসার সাথে কিভাবে নিউরাল, জেনেটিক বা বায়োক্যামিক্যাল নেটওয়ার্কগুলো যুক্ত মানুষ তা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করেছে। দেখা গেছে জুটিদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক মানুষ ব্যতিত অন্য স্তন্যপায়ীদের মধ্যে বিরল। যদিও অধিকাংশ প্রাণীর মধ্যে পারিবারিক বা সামাজিক বন্ধন দেখা যায়। উদাহরনস্বরূপ মাতৃস্নেহ হচ্ছে ভালবাসার অনন্য উদাহরণ। দেখা যায় যে, স্তন্যপায়ীদের মধ্যে এই ভালবাসার প্রক্রিয়া বা ধরন বিবর্তনের গতির সাথে তেমন পরিবর্তন হয়নি; প্রায় একই রকম রয়ে গেছে এই শক্তিশালী প্রক্রিয়াটি। অক্সিটসিনকে বলা হয় “ভালবাসার হরমোন”। অক্সিটসিন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে উৎপন্ন হয়ে পিটুইটারি গ্রন্থিতে জমা থাকে। সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনের সময় দেখা যায় মায়েদের মস্তিষ্কে অক্সিটসিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অক্সিটসিন শুধুমাত্র সন্তানের প্রতি ভালবাসা নয়, বরং সঙ্গী নির্বাচন বা সন্তান উৎপাদনে ভালবাসার কার্যকলাপের সময় অক্সিটসিন অতি মাত্রায় বেড়ে যায়। অক্সিটসিন শুধু ভালবাসার সাথে সম্পর্কিত নয়, তা মানুষে-মানুষে বিশ্বাস ও সামাজিক বন...

আমার ভাবনায় বন্ধুত্ব

ছবি
একসাথে ঘুরলে, একসাথে বসলে, একসাথে খেলে কিংবা একই মিছিলে অংশ নিলেই বন্ধু হয়ে যাওয়া যায়? এতসোজা? কি জানি বাপু , বুঝি কমতো… তাই বন্ধুর সংখ্যাও কম… কারন; আমার কাছে বন্ধুত্ব মানে দ্বায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা, শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, সমালোচনা করা অপমান বা কটাক্ষ করার মানসিকতা না। একেবারে আলাদা মর্যাদা, আলাদা একটা আবেদন। বন্ধুত্ব এমন একটা সম্পর্ক যার সাথে কোন সম্পর্কের তুলনা হয় না। পৃথিবীর এমন কোন সম্পর্ক নাই যার সাথে স্বার্থ নাই। একমাত্র বন্ধু হচ্ছে সেই সম্পর্ক যার কোন স্বার্থ নাই। আত্মীয় অনাত্মীয় যে কেউ যেকারো বন্ধু হতে পারে, যেকোন বয়সের। সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধুত্ব-প্রেম-ভালবাসা হয় না। কিন্তু কিছু কমিটমেন্ট করা যায় অনায়াসে, যেন বন্ধুত্ব-প্রেম-ভালবাসায় ভুল বুঝাবুঝি না হয়। বন্ধুত্ব মানে সবকিছু শেয়ারিং… আনন্দের সময় যেমন থাকবে, দুঃখ কিংবা বিপদেও থাকবে… কোন সমস্যা হলে আস্বস্থ্য করা, ভয় পাইস না আমি আছি। না শুধু টাকার বিচারে না, বন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যের মতো হবে। জটিল কিংবা অতিক্ষুদ্রতর সিদ্ধান্তটুকুও প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তার মতামত নেয়া কিংবা তার সাথে শেয়ার করা। বন্ধুত্ব মানে নিরাপত্তা এবং যত্ন। সুখিচিত্...